![]() |
| জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত |
বাংলাদেশের প্রতিটি স্তরে সংস্কারের প্রয়োজন: আখতার হোসেন
|
বাংলাদেশের সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, এই সংস্কারের স্বপ্ন নিয়েই দেশের মানুষ আন্দোলন করেছে এবং জীবন দিয়েছে। শুধুমাত্র শেখ হাসিনার বিদায় বা অন্য কারও ক্ষমতায় আসার জন্য ২০২৪ সালের আন্দোলনে মানুষ জীবন দেয়নি। সোমবার (২০ জানুয়ারি) আসাদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘শহিদ আসাদ থেকে শহিদ আবু সাঈদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। আখতার হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। ১৯৬৯ সালে রাজনীতিবিদরা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেও ২০২৪ সালে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ছাত্রদের ডাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসেছে এবং নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে। তিনি আরও বলেন, আজ অনেকেই প্রশ্ন তোলে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের অধিকার কোথায় পেল। তারা দাবি করে, শুধু নির্বাচিত সরকারই সংস্কার করতে পারে। আমরা জিজ্ঞাসা করতে চাই, অতীতে আপনারা যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, কত শতাংশ মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছিলেন? বর্তমান সরকার দেশের সর্বস্তরের মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছে। আখতার হোসেন বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা এই ফ্যাসিবাদী দলকে আর রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হতে দেব না। তাদের ক্ষমতায় থাকার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ১৯৭২ সালের সংবিধান। ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেতে হলে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, নতুন সংবিধান তৈরির প্রস্তাবে অনেকে সমালোচনা করেছেন। কিন্তু তরুণ প্রজন্ম এরই মধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো এতদিনেও এমন কোনো রোডম্যাপ দিতে পারেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে আখতার হোসেন বলেন, শুধু রাজনৈতিক দলের চাপ মোকাবিলা নয়, আপনাদের সংস্কারের পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করে যেতে হবে। কথার মাধ্যমে নয়, কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করেই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। আলোচনা সভায় জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। |

0 Comments